দেশ বিভাজনের শ্যামাপ্রসাদের ইতিহাস নিয়ে সিনেমা দাঙ্গা ‘Calcutta Killing 1946 ’

‘1946 Calcutta Killing ’ দাঙ্গা
শুভ মুক্তি 27 April 2018
        great calcutta killing in bengali
প্রতীক্ষার হল অবসান আগামী ২৭ এ  এপ্রিল ২০১৮ ভারতের প্রত্যেকটি ছবি ঘরে আসছে বিতর্কিত ছবি ‘1946 Calcutta Killing ’ দাঙ্গা। অনেক  দিন আগ্রহ করে অপেক্ষা করে আছি ছবিটিকে কবে ছবি ঘরে গিয়ে দেখবো। কারণ ছবিটিতে যেমন ভাবে বাংলা বিভাজনের সত্যিকারের ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে ঠিক সেই ভাবে ইতিহাসের বিস্মৃত প্রায় বাংলার নায়ক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পশ্চিমবঙ্গ বাঁচানোর জন্য তাঁহার অবদানকে।
প্রথমেই বলে রাখা ভালো এটি বেশ কিছু অর্থে বানিজ্যিক ছবি । সম্পূর্ণ বললাম না তার কারন পরিচালক যে সাহস দেখাতে পেরেছেন তা ভারতে কতজন পরিচালক দেখাতে পারতেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে । ভারত বিভাজনের ইতিহাস
নিখাদ ইতিহাসনিষ্ঠ হলে গল্প জমে না — কতদূর সাধারন মানুষের কাছে পৌছয় তাই নিয়েও সন্দেহ আছে  অতএব অনুধাবন করতে হলে পন্ডিতি যুক্তি ফেলে পরিচালকের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে হবে । মিলনবাবুর মূল উদ্দেশ্যই ছিল আপামর জনসাধারনের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ তথা তৎকালীন বাংলার পরিস্থিতির পরিচিতি ঘটানো । ১৯৪৬ এর কলকাতা দাঙ্গার সঙ্গে ভারত ভাগ এবং তৎপরবর্তী হিন্দু বিতারন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে তাই সঙ্গত কারনেই পরিচালক এই বিষয়টিই বেছেচেন । ‘1946 Calcutta Killing ’
ইয়ুটুব থেকে ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে

১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার কথা

Table of Contents

১৬ই আগষ্ট দাঙ্গা শুরু হওয়ার দিন থেকে ১৭ই আগষ্ট সন্ধ্যে অবধি অপ্রস্তুত হিন্দুরা একতরফা মার খেয়েছিল । চারিদিকে “ আল্লা হো আকবর “ , “ পাকিস্তান জিন্দাবাদ ” ধ্বনি । সোহরাওয়ার্দি লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে বসেছিলেন । দাঙ্গা প্রশমন করার চেষ্টা তো দূরের কথা পুলিশ – সেনাবাহিনীকে নির্লিপ্ত হয়ে থাকার নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন । ১৭ই আগষ্ট রাত থেকে কিন্তু হাওয়া ঘুরতে শুরু করল । মারনাস্ত্র নিয়ে পথে নামল বিহার ও উত্তরপ্রদেশের কিছু কালোয়ার , শিখরা এবং অবশ্যই বাঙালী হিন্দুও । যে দুজন বিস্মৃতপ্রায় বাঙালি হিন্দুর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁদের একজন হলেন গোপাল মুখার্জী আর অপরজন রাম চ্যাটার্জী । সোওরাওয়ার্দির ধারনা ছিল না যে বাঙালী হিন্দুরা মারমুখো হতে পারে ।  শোধ নিতে গিয়ে গোপাল মুখার্জীরা এমন ত্রাস এমন নিষ্ঠুরতার সৃষ্টি করেছিলেন যে সমগ্র মুসলিম লীগ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল । ১৯শে আগস্টের মধ্যে হিন্দু -শিখরা সব হিসেব চুকিয়ে ফেলেছিল । ইম্পিরিয়াল পুলিশের একজন প্রবীন অফিসার অশোক মিত্রকে বলেছিলেন , ’ কন্ট্রোল রুমের চেয়ারে সোহরাওয়ার্দি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন আর আওড়াচ্ছেন , “ আমার বেচারা নির্দোষ মুসলিমরা ।“ একটু অতিনাটকীয় হলেও মিলন বাবু বড় যত্ন করে বড় মমতার সঙ্গে গোপাল মুখার্জীর চরিত্রটি এঁকেছেন ।
৭০-৭১ বছর দেশভাগের পরেও আজ পর্যন্ত কোন সিনেমা করিয়ের বুকের পাটা হয়নি কারনটা অনুসন্ধান করার — কেন  ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এত বড় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বাংলার অগণিত নিরপরাধ হিন্দু নরনারী ও নিষ্পাপ শিশুদের সাম্প্রদায়িক বর্বরতার স্বীকার হতে হল । মিলন ভৌমিক কিন্তু চেষ্টা করেছেন । অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে উনি দেখিয়েছেন সামগ্রিকভাবে মুসলিম লীগের ভূমিকা । ‘ নেহেরু তো মুসলমান ’ এই ধরনের বেশ কিছু অসম্ভব সাহসী সংলাপ আছে সিনেমাটিতে । নোয়াখালীর দাঙ্গা চলাকালীন নেহেরু , রামমনোহর লোহিয়ার মত অনেক নেতা গান্ধীজিকে সঙ্গ দিতে গিয়েছিলেন । রামমনোহর লোহিয়া পরে নেহেরুর একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যাতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে নেহেরু কতবড় বাংলা এবং বাঙালী হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন । লোহিয়াকে উদ্দেশ্য করে নেহেরু বলেছিলেন ,“ দেখেছ , এই ফেব্রুয়ারি মাসেও কেমন জলকাদা ঝোপজঙ্গলে ভর্তি ! এটা আমাদের চেনা ভারত নয় — এই অঞ্চল ভারত থেকে বাদ পড়লে ক্ষতি কি ? “ নেহেরুর এই চরিত্র সাহসিকতার সঙ্গে দেখিয়েছেন মিলন বাবু ।

                    

বিটির কিছু ষ্টীল আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম যেখানে  শ্যামাপ্রসাদ , নেহেরু, গোপাল পাঁঠা কে দেখতে পাচ্ছেন 

১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গা নিয়ে সিনেমা

মুসলিম লীগ সমর্থন প্রত্যাহারের পর শ্যামাপ্রসাদ ফজলুল হকের প্রোগেসিভ কোয়ালিশনে যোগদান করেছিলেন । ওনার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দু -মুসলিম ঐক্যের শেষ প্রচেষ্টারও কফিনে পেরেক পোঁতা হয়ে গেল । শ্যামাপ্রসাদ ঐ দাঙ্গাপূর্ণ দিনগুলোতে আক্রান্ত হিন্দুদের বুক দিয়ে আগলেছিলেন । বাঙালি হিন্দুরা যাতে তাঁদের কৃষ্টি -সংস্কৃতি , নারীর সম্ভ্রম নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে তার জন্য পাকিস্তানের অংশ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন । অথচ বাম-কংগ্রেস শাসনকালে এই মানুষটাকেই ভুলিয়ে দেবার সবরকমের প্রচেষ্টা  হয়েছিল । অথচ কি আশ্চর্য দেখুন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে যারা কলা, বিজ্ঞান , সাহিত্য , চিকিৎসা , আইন, সঙ্গীত, খেলাধূলা, রাজনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের অন্তত পক্ষে ষাট শতাংশ পূর্ববঙ্গের । আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের আটজন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে পাঁচজন পূর্ববঙ্গীয় — প্রফুল্ল ঘোষ, প্রফুল্ল সেন, সিদ্ধার্থশংকর রায়, জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য । বামদলগুলোর সিংহভাগ নেতা-কর্মী প্রমোদ দাশগুপ্ত, শৈলেন দাশগুপ্ত ,প্রশান্ত শূর, সুভাষ চক্রবর্তী প্রমুখেরা পূর্ববঙ্গীয় ।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কে নিয়ে সিনেমা

মিলন ভৌমিক এই বিস্মৃতপ্রায় শ্যামাপ্রসাদকে সাধারন মানুষের মধ্যে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন । তবে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকায় গজেন্দ্র চৌহানকে আমার একটু অপ্রতিভ লেগেছে । বিপুল ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটির চরিত্রায়নে মনে হয়েছে কিছুটা খামতি থেকে গিয়েছে । ব্যাস এতটুকু বাদ দিলে এই সিনেমাটি অনেক মানুষকে পথ দেখাবে ।( লেখাটি পুরোপুরি আমার নয়, ছবির পরিচালক মিলন ভৌমিক বাবুকে ধন্যবাদ আমাকে সহায়তা করার জন্য )
ছবিটির প্রমো ভিডিও দেখার জন্য YouTube যেতে ক্লিক করুন – 1946, Calcutta Killings
ছবিটির  ফেইসবুক পেইজে গিয়ে নিয়মিত আপডেট পেতে ক্লিক করুন – 1946  Calcutta Killings,  Movie

                                                        শুভ মুক্তি 27 April 2018

কোন কোন সিনাম ঘরে ছবিটি দেখতে পাবেন

নিচের লিঙ্কে কিল্ক করলে আপনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিয়ে বা আরো অনেক বাংলা নিবন্ধ লেখা পড়তে পারবেন ।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যার্জীর ভূমিকা

শ্যামাপ্রসাদের ব্যর্থ বলিদান বইটি পড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কে জানুন

বাংলা বিভাজনের সত্যিকারের ইতিহাস নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সিনেমা

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যু রহস্য থেকে গেলো বিচার হলোনা

বীরবাঙালি ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর “এক দেশ, এক বিধান” স্বপ্ন সফল হলো।

ইতিহাসের অন্তরালে ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর অবদান

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুর পর সেদিনের কলকাতা স্তব্ধ শোকে উত্তাল হয়েছিল

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি

বাংলা নিবন্ধ

বাংলা মনিষীর কথা

  Kolkata – Indira (bhowanipur) Ajanta (behala) Toki show house (shayam bajar) Jagat (college streat) Arati (baguihati) moon lighte (kol)
Lila(baroipur)  Vijoa (barashat)  Amala (brack pur) gupta (barack pur )SreeLaxi( kachrapara) Falguni (BASHIR HAT) Rajoni (jagaddal)
RANAGHAT TIKIJ (RANAGHAT) SANGHTA (KRISHNAGAR) 
SHUJATA (BAGNAN)SANTI  (KADAMTALA HOWRAH) MONIHAR(CHANDIPUR) 
BHARATI( GHATAL) RUPKOTHA (GOBINDAPUR) PURBASHA (MACHLANDAPUR) 
NEWBIJOLI DIMOND HURBUR (DIMOND HURBUR) SREERAMPUR TOKIJ (sreetampur)Anurupa (Bogachia)  Ram krishna (kolagachi) 
Rupsree (Agartala)

Leave a Comment