জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পর্যালোচনা | New Education Policy 2020 in Bengali

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর লক্ষ্য

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় পাশ হল নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ । গতবছর জুন মাসে শিক্ষানীতির খসড়া প্রকাশিত হয়, যেখানে নানা মহলের মতামত চাওয়া হয়েছিল। সেই মতামত চাওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ৩১শে জুলাই।

এই  জাতীয় শিক্ষানীতি 2020 new education policy 2020 in Bengaliযেন এক বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তব করছে। আমার ছোট থেকে ইছা ছিল বা আমি ভাবতাম যে জাপান চীন যে ভাবে প্রতিভার উপর শিক্ষা দিছে সে ভাবে ভারতে কবে হবে। কবে আমরা নিজের মাতৃ ভাষার উপর জোড় দিয়ে পড়াশুনা করতে পারবো। কবে আমার ভালো লাগা বিষয় গুলো নিয়ে পড়তে পারবো। কবে শিক্ষিত হয়ে মানুষ হব যন্ত্র না ! কবে আমাদের শিক্ষা রোজগার মুখী গড়ে তুলবে । কবে অর্থের বিনিময়য়ে শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ হবে। কবে শিক্ষার মানে মুখস্ত বিদ্যা না , শিক্ষার মানে সামাজিক মানুষ গড়ে তুলার জন্য শিক্ষা হবে। । কবে  শিক্ষা নিয়ে এই ভাষার বিভেদ দূর হবে ? কিন্তু আমার এই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি গুলো দেখে মনে হল এই জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ যদি সম্পুর্নভাবে বাস্তাবিয়ত হয় তাহলে আমার প্রশ্ন গুলর উত্তর অবশ্যই হবে। শিক্ষা হোক ভারত কেন্দ্রিক।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০

জাতীয় শিক্ষানীতি কি এবং কাকে বলে ?

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন মনুষ্যত্বের শিক্ষাটাই চরম শিক্ষা আর সমস্তই তার অধীন মুখস্থ করিয়া পাস করাই তো চৌর্যবৃত্তি! যে ছেলে পরীক্ষাশালায় গোপনে বই লইয়া যায় তাকে খেদাইয়া দেওয়া হয়; আর যে ছেলে তার চেয়েও লুকাইয়া লয়, অর্থাৎ চাদরের মধ্যে না লইয়া মগজের মধ্যে লইয়া যায়, সেই-বা কম কী করিল? অত্যাবশ্যক শিক্ষার সহিত স্বাধীন পাঠ না মিশাইলে ছেলে ভালো করিয়া মানুষ হইতে পারে না—বয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিবৃত্তি সম্বন্ধে সে অনেকটা পরিমাণে বালক থাকিয়াই যায়।

new education policy 2020 in Bengali শিক্ষানীতির সংজ্ঞা বলতে প্রতিটি দেশের একটি শিক্ষা নীতি থাকে যেখানে আগামীতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কি ভাবে হবে কেমন হবে তা নিয়ে দির্ঘ নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থেকে। ভারতের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রকের সচিব অমিত খারে জানিয়েছেন ৩৪ বছর বাদে নতুন শিক্ষানীতি চালু হচ্ছে দেশে। ১৯৮৬ সালে চালু হওয়া ১৯৯২ সালে সংশোধিত হয়, জানা গিয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কর্তা ও শিক্ষাবিদের মতামত নিয়েই তৈরী করা হয়েছে নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ।

জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ প্রায় পাঁচ বছর সময় ধরে প্রায় আড়াই লক্ষ পঞ্চায়েত, ৬ হাজার ৬০০ টি ব্লক, ৬ হাজার পুরসভা ও ৬৭৬টি জেলা থেকে ২ লক্ষের বেশি পরামর্শ গ্রহণ করে এক অভূতপূর্ব পদ্ধতিতে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ তৈরি করা হয়েছে। মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ব্যাপক, সর্বাত্মক এবং যত বেশি সম্ভব পরামর্শ নেওয়ার জন্য ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই কাজ শুরু করেছিল। প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব স্বর্গীয় টিএসআর সুহ্মমনিয়ানের নেতৃত্বে ‘কমিটি ফর রিভলিউশন অফ দি নিউ এডুকেশন পলিসি’ এই সংক্রান্ত্র প্রতিবেদন ২০১৬র মে মাসে জমা দেয়। তার ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রক জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১৬র খসড়া তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৭-র জুন মাসে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পদ্মবিভূষণ ডঃ কে কস্তুরীরঙ্গনের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করা হয়। এই কমিটিও জাতীয় শিক্ষা নীতির খসড়া তৈরি করেছে। ২০১৯এর ৩১শে মে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে কমিটি তার প্রতিবেদন জমা দেয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

new education policy Analysis ভারতে মোট তালিকাভুক্ত পড়ুয়ার অনুপাত ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও (জিইআর) বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে কারিগরি শিক্ষাও অন্তর্গত। ২০১৮ সালে যেখানে এই অনুপাত ছিল ২৬.৩ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে তা বৃদ্ধি করে ৫০ শতাংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ নতুন আসনের ব্যবস্থা করা হবে ।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মাবলি মেনেই তৈরী করতে হবে বেতনের পরিকাঠামো।
  • পড়াশুনো আর্থিক কারণে বন্ধ হয়ে গেলেও যে কোন সময় শিক্ষা ব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ থাকছে!
  • UGC, NCTE মিশে গিয়ে একটিই সংস্থা হবে!
  • বিশ্ববিদ্যালয় গুলির Ranking অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসন স্থির হবে। RANKING যত ভালো হবে তত বেশী স্বায়ত্তশাসন সুযোগ
  • ভারতীয় ভাষাগুলিতে ই-লার্নিং ব্যবস্থা শুরু হচ্ছে‼️ নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে থাকছে ২২টি ভাষা। পাশাপাশি থাকছে অডিও বই ও E- learning । সেই সঙ্গে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে একাধিক ভাষাগত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে মনোনিবেশ করা হবে। শিক্ষকরা কেবল ইংরেজিতেই নয়, ভারতীয় সমস্ত আঞ্চলিক ভাষাতেও শিক্ষাদান করতে হবে তাদের। এম এইচ আর ডি ইতিমধ্যেই অনান্য রাজ্যে শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক ভাষা শেখানোর জন্য পর্যালোচনা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক ভাষায় ই- কোর্সের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষাদান, মূল্যায়ন, এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকবে প্রযুক্তির ব্যবহার। ই- কোর্সের ব্যবহার অনুযায়ী পঠন পাঠন আঞ্চলিক ভাষায় উপলভ্য থাকবে। হিন্দি এবং ইংলিশ ভাষার পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে প্রধান ভাষা যেমন কন্নাডা, ওড়িয়া, বাংলা , ভাষা কোর্সের ব্যবস্থা থাকবে।
  • এই শিক্ষানীতি অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মাতৃভাষা/স্থানীয় ভাষা/আঞ্চলিক ভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া করানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থা অষ্টম শ্রেণী বা তার পরও চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা ত্রি-ভাষা সূত্র অনুযায়ী বিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষায় সংস্কৃত নিয়ে বিদ্যাচর্চা করতে পারবে। ভারতের অন্যান্য প্রাচীন (ক্ল্যাসিক্যাল) ভাষা এবং সাহিত্য নিয়েও পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। ছাত্রছাত্রীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ‘ভারতের ভাষা সমূহ’এর আওতায় একটি প্রকল্পে অংশ নেবে- ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ উদ্যোগে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। তবে ছাত্রছাত্রীদের ওপর কোন ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবেনা। দেশজুড়ে ভারতীয় সংকেত ভাষার (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) একটিই সংস্করণ তৈরি করা হবে। যেসমস্ত পড়ুয়াদের শুনতে সমস্যা হয় তাদের জন্য জাতীয় এবং রাজ্য স্তরের পাঠক্রমে এটি কার্যকর করা হবে।new education policy Analysis
  • প্লে বেসড কারিক্যুলাম ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। ১-৩ ক্লাসের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে নতুন জাতীয় মিশন চালু হচ্ছে‼️ ন্যাশনাল ক্যারিকুলার অ্যান্ড পেডাগোগিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর আর্লি চাইন্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড এডুকেশনের মাধ্যমে ৮ বছর পর্যন্ত শিশুদের শিক্ষাদানের পাঠক্রম তৈরি করা হবে। এই ব্যবস্থায় অঙ্গনওয়াড়ী ও প্রাক বিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করা হবে, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াটি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক, মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রক যৌথভাবে পরিচালনা করবে।
  • ১০+২ শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন- মাল্টিডিসিপ্লিনারি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, কেমিস্ট্রির সঙ্গে পড়া যাবে বেকারি সায়েন্স বা মিউজিক‼️ ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন, শিল্প, নৃত্য, থিয়েটার, গণিত, পরিসংখ্যান, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, অর্থনীতি, ক্রীড়া, ইত্যাদি বিভাগে উচ্চ শিক্ষাকে প্রতিষ্ঠিত ও জোরদার করা হবে ইন্সটিটিউট গুলোতে।
  • মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা উঠে গেল । জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী স্কুল স্তরের যাবতীয় পরীক্ষা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন ( এম এইচ আর ডি) মন্ত্রক । নতুন পদ্ধতিতে ৫+৩+৩+৪ শ্রেনী ভিত্তিক মূল্যায়ন চালু হবে। বোর্ড গুলির এবং শিক্ষাবিদদের সুপারিশ পাওয়ার পরই ১০+২ কাঠামো বাতিল করা হবে। এবং ২০২১ সাল থেকেই নয়া মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হবে। এরফলে ৩ থেকে ৮, ৮ থেকে ১১, ১১ থেকে ১৪, এবং ১৪ থেকে ১৮ বছর ধাপ অনুযায়ী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এই ব্যবস্থায় ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের বিদ্যালয় ব্যবস্থায় নিয়ে আনা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য এই সময়সীমাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় ১২ বছর বিদ্যালয় শিক্ষার আগে ৩ বছর অঙ্গনওয়াড়ী বা প্রাক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা থাকছে।
  • শিক্ষা ব্যবস্থার একদম গোড়া থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষন কালকে মোট চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রাক প্রাথমিকের তিন বছর এবং প্রথম- দ্বিতীয় শ্রেণীকে নিয়ে পাঁচ বছরের ভিত্তি শিক্ষাকালকে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রথমে। এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সময় কালকে প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সময়কালকে মধ্যবর্তী সময়কাল ধরা হয়েছে। এবং নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট চার বছরকে ‘সেকেন্ডারী’ স্তর রূপে সুপারিশ করা হয়েছে।
    জানা গেছে ক্লাস ফাইভ ও এইটে থাকছে বোর্ডের পরীক্ষা ।new education policy 2020 in Bengali
  • ছাত্রছাত্রীদের প্রতিভা বাছাই করে নির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া হবে । কোন শিশু যাতে তার জন্মগত বা সামাজিক কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ তা নিশ্চিত করছে। সামাজিক ও আর্থিকভাবে পশ্চাদপদ গোষ্ঠির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে- এর মাধ্যমে লিঙ্গ, আর্থ-সামাজিক এবং ভৌগলিক পরিচিতির কারণে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্যও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পিছিয়ে পরা অঞ্চল এবং জনগোষ্ঠীর জন্য জেন্ডার ইনক্লুশন ফান্ড ও স্পেশাল এডুকেশন জোনস গঠন করা হবে।
  • ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুরা বুনিয়াদি শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সাধারণ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পারবে। তাদের জন্য স্পেশাল এডুকেটর, রিসোর্স সেন্টার, সহায়ক যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবস্থা থাকবে।
  • প্রতিটি রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ‘বাল ভবন’ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে। এখানে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে শিল্পকলা এবং খেলাধুলা ভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীরা সামিল হতে পারবে। সামাজিক চেতনা কেন্দ্র গঠন করা হবে, সেগুলি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।
  • মেয়েদের শিক্ষায় ব্যপক পরিবর্তন- গান্ধী স্কুলগুলিকে ক্লাস ১২ পর্যন্ত উন্নীত করা হচ্ছে‼️
  • ভোকেশনাল পড়া শুরু হচ্ছে ক্লাস -৬ থেকে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কোডিং শিখতে পারবে পড়ুয়ারা ।
  • বোর্ড পরীক্ষা দুই ভাগে ভাগ করা হবে- অবজেক্টিভ ও সাবজেক্টিভ
  • রিপোর্ট কার্ড ৩ ভাগের- ছাত্রছাত্রী নিজে, সহপাঠীরা এবং শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন।
  • নবম থেকে দ্বাদশে এবার থেকে একটাই মডিউল। চার বছরে ৮ টি সেমিস্টারে পরীক্ষা হবে
  • কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরীক্ষা নিতে পারে।
  • সায়েন্স,আর্টস,কমার্স এর ভাগ রইল না। পছন্দমত সাব্জেক্ট চয়েস করা যাবে।
  • স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা দিতে হবে। তবে এটি এখনই বাধ্যতামূলক নয়।
  • নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় অনার্স কোর্স চার বছরে। শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দমতো মেজর ও মাইনর সাবজেক্ট বাছতে পারবে। কলেজ গুলোকে দেওয়া হবে স্বশাসন ।
  • শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মাঝে লম্বা ছুটি নিতেও পারবে। এই ধরনের ছুটিকে বলা হয় “স্যাবাটিকাল” । কতদিনের ছুটি নিতে পারবে তা স্থির করবে উচ্চ শিক্ষা কমিশন।
  • বন্ধ করা হচ্ছে এম ফিল, স্নাতক স্নাতকোত্তর এর পর থাকছে পি এইচ ডি। new education policy 2020 in Bengali
  • নয়া শিক্ষানীতিতে জাতীয় একাডেমিক ক্রেডিট ব্যাঙ্কের ( এন এসি বি ) প্রস্তাব কে মান্যতা দেওয়া হয়েছে । যার মারফত কোনো কোর্স শেষ করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ওই ক্রেডিট ব্যাঙ্ক মারফত টাকা জমা করতে পারবে। এটি একটি কোর্স বা ইন্সটিটিউট থেকে সহজেই অন্য কোর্সে স্থানান্তর করতে পারবে।
  • ১০০টি বিদেশি বিশ্ব বিদ্যালয় ভারতে তাদের ক্যাম্পাস খুলতে চলেছে। যাতে করে আমাদের দেশের ছাত্র ছাত্রীদের বিদেশে গিয়ে অর্থ খরচা করে যাওয়ার থেকে নিজের দেশেই বিদেশের বিস্ববিদ্যলয়ের ক্যাম্পাসে পড়তে পারবে। তাতে দেশের মানব সম্পদ দেশেই থাকবে। new education policy 2020 in Bengali
    সংস্কৃত ভাষাকে মূল ভাষা  হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হবে স্কুল স্তরে। দেশের এবং বিশ্বের সব থেকে প্রাচীন ভাষাকে স্কুল স্তরে অন্তর্ভুক্ত করণের ফলে। আজ যে ভাষা কিছু ভারতের সংস্কৃতিকে অবমাননা করতো তাদের হয়তো গায়ে লাগছে কিন্তু যেই ভাষা এখন কম্পুটারের সব থেকে সুইটেবল ল্যাংগুয়েজ এবং নাশার মতে এই সংস্কৃত ভাষা তাহাদের জন্য সুইটেবল ল্যাংগুয়েজ , আজ সেই ভাষাকে বহু বছর পর আবার স্কুল স্তরে আনা হল। যাহা এক দারুণ পদক্ষেপ।

    জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পর্যালোচনা  ভালো লাগলে অনুগ্রহ করে নিচে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না। 

New Education Policy draft in ENGLISH – CLICK TO DOWNLOAD

New Education Policy draft in HINDI – CLICK TO DOWNLOAD

2 thoughts on “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পর্যালোচনা | New Education Policy 2020 in Bengali”

  1. জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ভারতের শিক্ষা ব্যাবস্থায় এক আমুল পরিবর্তন আনবে।এই শিক্ষানীতির ফলে স্কুলছুট কমবে।শিক্ষা আর বোঝা হয়ে থাকবে না।বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভারতে ক্যাম্পাস খুললে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করতে হবে না।

    Reply
  2. জাতীিয় শিক্ষানীতি অভুতপূর্ন।জনগনের মধ্যে জাগ্রত হবে জাতীয় ও সংস্কৃতি বোধ॥

    Reply

Leave a Comment