শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের নিকট নেতাজি কত ঋণী তাহা ভাষায় কি করে প্রকাশ করব

Spread the love( Please Share)

Reading Time: 5 minutes

Table of Contents

নেতাজির চোখে স্বামী বিবেকানন্দ

Netaji Subhas Chandra Bose on Swami Vivekananda

netaji subhas chandra bose swami vivekananda

সুভাষচন্দ্র বসু স্বামী বিবেকানন্দকে মন প্রাণ দিয়ে মানতেন

বাল্যকাল থেকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বামী বিবেকানন্দের বিচারধারার প্রতি আকর্ষিত হয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর লেখা কিছু বই এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বলা কিছু উক্তি দ্বারা তুলে ধরার চেষ্টা করব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বামী বিবেকানন্দকে মন প্রাণ দিয়ে মানতেন।
প্রথমেই বলেছি বাল্যকাল থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বামী বিবেকানন্দকে মানতেন। তিনি বলেছিলেন ছাত্র অবস্থায় এমন একটা আদর্শ তাহার প্রয়োজন ছিল যার উপর ভিত্তি করে তিনি সমস্ত জীবনটাকে গড়ে তুলতে পারবেন। যেখানে কোন প্রলোভন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যাবে। এমন একটি আদর্শ খুঁজে বের করা তাঁর পক্ষে এতটা সহজ সহজ ছিলনা। কিন্তু তিনি পেয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে একদিন তিনি তার এক আত্মীয় সুহদ চ্ন্দ্র মিত্রের বাড়িতে গেছিলেন। আপনি আর ঘরে বসে তিনি যখন বই ঘাট ছিলেন তখন তার হঠাৎ সাবেক আনন্দের বই গুলির উপর নজর পড়েছিল তিনি কয়েক পাতা উলটেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই তো এই জিনিসটাই তিনি চাইছিলেন তিনি কয়েকটি বই নিজের

বাড়িতে নিয়ে এসে মনোযোগ হিসাবে করতে থাকলেন যেখানে তাহার বই গুলির প্রতি হৃদয়-মন আচ্ছন্ন হয়ে যেতে লাগল। দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল। তুমি যতই সং বিবেকানন্দকে পড়েছিলেন ততই গভীর ভাবে তার প্রতি ডুবে গিয়েছিলেন। তিনি মন তাই তিনি মনে করেছিলেন মানব জাতির সেবা এবং আর তোমার মুখটি এই ছিল তাহার জীবনের আদর্শ বিবেকানন্দের কথা মত তিনিও ভাবতেন মাতৃভূমি ছিল তার আরাধ্য দেবী। তিনি ধীরে ধীরে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র 15। বিবেকানন্দের প্রভাব তার জীবনে অমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। হ্যাঁ হ্যাঁ বিবেকানন্দ ছিল তাহার জীবনের আদর্শ পুরুষ যার মধ্যে তাহার মনের অসংখ্য জিজ্ঞাসার সমাধান তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন বিবেকানন্দের পথেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন।

স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কিত ধারনা

Shubhas Chandar Bose inspirited by Swami Vivekananda

The Indian struggle, Asia Publishing House, Bombay ect 1964,P,21 তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের কাছে ধর্ম ছিল জাতীয়তাবাদের প্রেরণাস্থল। তিনি চেয়েছিলেন যুব সমাজের মধ্যে ভারতবর্ষের অতীত সম্পর্কে গর্ব বোধ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশার মনোভাব সঞ্চারিত করতে: আর চেষ্টা করেছিলেন তাহাদের মধ্যে আত্নবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধকে জাগিয়ে তুলতে স্বামীজী কোন রাজনৈতিক মতবাদ প্রচার করেন নি। কিন্তু যারা ইতাহার সান্নিধ্যে এসেছে বা তাহার লেখা পড়েছেন তাদের মধ্যে একটা দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক মানসিকতা গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত বঙ্গভূমির ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ আধুনিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আধ্যাত্নিক জনক হিসেবে সম্মানিত হওয়ার যোগ্য। অত্যন্ত অল্প বয়সে ১৯০২ সালে তিনি দেহ রক্ষা করেন কিন্তু তাহার উপর তাহার প্রভাব আবারও ব্যাপক হয়ে উঠেছে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস স্বামী বিবেকানন্দের আধ্যাত্মিক শক্তি এবং প্রাণবন্ত শক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন স্বামীজি ছিলেন শক্তির উপাসক তাই তিনি দেশবাসীর উন্নয়নের জন্য বেদান্তের বাস্তব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শক্তি শক্তি শক্তি উপনিষদের কথা বারবার করে বলেছিলেন। স্বামীজি চরিত্র গঠনের উপসর্গ অপেক্ষা বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ যদি আর জীবিত থাকতো তাহলে তিনি তাঁর চরণে আশ্রয় নিতেন স্বামী বিবেকানন্দ বর্তমান বাংলার স্রষ্টা। নেতাজী বলেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দের নিকট তিনি করিনি তা তিনি ভাষায় প্রকাশ করিতে পারিবেন না তিনি বলেছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের সঙ্গে স্বামীজীকে একসাথে না দেখলে স্বামীজীকে যথার্থভাবে বিচার করা যায় না। স্বামীজি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ধর্ম ও বিজ্ঞানের অতীত ও বর্তমানের সমন্বয় করেছিলেন তাই তিনি মহত্ তাহার শিক্ষায় দেশবাসী অভূতপূর্ব আত্মসম্মান আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপ্রতিষ্ঠা বদ লাভ করেছিল। নেতাজী বলেছিলেন স্বাধীনতার অখন্ড উপহাস রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের মধ্যে পাওয়া যায়। “Freedom freedom is the song of the soul” – এই বাণী যখন স্বামীজীর অন্তরের রুদ্ধ দুয়ার ভেদ করে নির্গত হয় তখন তা সমগ্র দেশবাসীকে মুক্ত উন্মুক্ত প্রায় করে তোলে। তার স্বামী বিবেকানন্দের সাধনার ভিতর দিয়ে আচরণের ভেতর দিয়ে কথা ও বক্তৃতার ভিতর দিয়ে এই সত্য বের হয়ে এসেছিল। নেতাজী বলেছিলেন আপনারা যাকে আধ্যাত্নিক ভন্ডামি বলতে পারেন স্বামীজীর মধ্যে তার বিন্দুমাত্র অভ্যাসও ছিলনা স্বামীজি চোখে এসব অসহ্যবোধ বক ধার্মিকদের উদ্দেশ্য করে স্বামীজি বলতেন salvation will come through football and not through Gita. স্বামীজি নিজে বৈদান্তিক হয়েও তিনি ভগবান বুদ্ধের পরম ভক্ত ছিলেন তিনি মনে করতেন তিনি বুদ্ধের সেবক সেবক এর সেবক তস্য সেবক।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বামী বিবেকানন্দের যে কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে মাতৃভূমিকে নিজের আরাধ্য দেবী হিসেবে মনে করেছিলেন এবং তাহার প্রতি ভালোবাসা দশগুণ বেড়ে গেছিলো। সেই বাণী কি হলো দরিদ্র ভারতবাসী, মূর্খ ভারতবাসী, চন্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই বল ভাই। ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ, ভারতের কল্যাণ ও আমার কল্যাণ, আর বলো ভাই দিন রাত, হে গৌরিনাথ, হে জগদম্বে, আমায় মনুষ্যত্ব দাও, মা আমার দুর্বলতা, কাপুরুষতার দূর কর, আমায় মানুষ কর। ( মধ্যপ্রদেশের নেতাজির এক চিঠি থেকে নেওয়া)

vir savarkar and netaji subhas chandra bose

বাংলার সম্পর্কে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলতে গিয়ে স্বামীজি সম্পর্কে বলেছিলেন- স্বামী বিবেকানন্দই বাংলার ইতিহাস কে নতুন পথে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তিনি সমগ্র সমাজকে একসঙ্গে আলিঙ্গন করেছিলেন তার অগ্নিময়ী বাণী এখনো বাংলার ঘরে ঘরে ধ্বনিত হচ্ছে নতুন ভারত বেরুক হাত থেকে বাজার থেকে কল কারখানা থেকে। নেতাজী বলেছিলেন কালমার্সের গ্রন্থ থেকে এই সমাজতন্ত্রের জন্ম হয়নি ভারতের চিন্তা ও সংস্কৃতির উপর আসল উৎস। স্বামী বিবেকানন্দ দিগন্তের গণতন্ত্রের আদর্শ প্রচার করেছিলেন তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের রচনায় ও কর্মে মূর্তি পরীক্ষা করেছিল।,,,,
তিনি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এবং যুব সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ এবং রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কে বারবার স্মরণ করে বলেছিলেন আমাদের  কথা বলিবার সময় আরও একটি বিষয় উল্লেখ না করে থাকতে পারি না আজকাল জনসাধারণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে একপ্রকার ধুলোগুলো বিলাসিতা প্রবেশ করেছে। অথচ আজকাল দেশের আর্থিক অবস্থা পূর্বাপেক্ষা শোচনীয় হয়ে পড়েছে ইহাই সত্য কি? যদি তাই হয় তবে তাহার কারণ কি? আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন ছাত্র মহলে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সাহিত্য’ এর প্রচার ছিল। আজকাল নাকি তরুণ সমাজের মধ্যে ওই সাহিত্যের তেমন প্রচার নেই ! তার পরিবর্তে নাকি লোগো পূর্ণ এবং সময়ে সময়ে অশ্লীলতা পূর্ণ সাহিত্যের খুব প্রচার হয়েছে! এ কথা কি সত্য ? যদি সত্য হয় তাহলে ইহা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কারণ মানুষের সমাজে যেরূপ সাহিত্যের দ্বারা পরিপূর্ণ হয় তাহার মনোবৃত্তি তদ্রুপ গড়ে ওঠে। চরিত্র গঠনের জন্য শ্রী রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দর সাহিত্য অপেক্ষা উৎকৃষ্ট সাহিত্য আমি কোনোদিন কল্পনা করতে পারিনা।

The spiritual guru of Subhash Chandra Bose

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বারংবার নিজের জীবনে শক্তি সঞ্চার থেকে শুরু করে চালিকাশক্তি হিসেবে স্বামী বিবেকানন্দ এবং রামকৃষ্ণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বারবার চাইতেন যে যুব সমাজ স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ধারা পরিচালিত হোক। এগিয়ে চলুক। এবং দেশকে দশের উন্নতি সাধনের জন্য নিজের সময় দিক। আজও একুশ শতকে এসে আমরা নেতাজি এবং স্বামীজীকে সাথে নিয়ে চলতে পারলে দেশের এবং দেশের উন্নতি সাধন হবে।

ভালো লাগলে সকলের সাথে শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ করে দিন। এই ব্লগ সাইট টিতে আরো অনেক কিছু তথ্য এবং লেখা আছে পড়তে পারেন এবং ইমেইল সাবস্ক্রিপশন অপশন আছে যা একেবারে বিনামূল্যে আপনার ইমেইল এড্রেস দিয়ে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন এবং আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে ইমেল করুন-  abdutta21@gmail.com

নিচে কমেন্ট বক্সে মনের কথা লিখুন

বীরবাঙালি ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর “এক দেশ, এক বিধান” স্বপ্ন সফল হলো।


Spread the love( Please Share)

Leave a Reply