নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল CAB : পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুদের রক্ষাকবচ

Reading Time: 8 minutes

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কেন

What is the Citizenship Amendment Bill
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে আলোচনা করবার আগে একটু ইতিহাসের পাতা ঘেটে দেখা উচিত আমি মনে করি।
১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজত্ব চালানোর শক্তি ছিলনা তখন তারা ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করে স্বাধীনতা প্রদান করেছিল, সেই স্বাধীনতা গান্ধীজি চক্রান্তই বলুন কি মুসলিম লীগের ক্ষমতালোভী আশংকায় বলুন বা আমাদের দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থসিদ্ধির পরিকল্পনায় বলুন, তা যা কিছুই বলুন না কেন দেশ বিভাজন হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে।  ব্রিটিশ চুক্তি অনুসারে হিন্দুরা থাকবে ভারতবর্ষে এবং মুসলমানরা থাকবে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানে। পরে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে হয়। কিন্তু এখানে প্রশ্ন উঠে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন হয় পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ একটি ঘোড়া ইসলাম মতাদর্শের ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করে। ১৯৪৭ বিভাজনের পর পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের হিন্দুদের সংখ্যা যেই শতাংশ অনুসারে ছিল তাহা নেমে একেবারে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করেছে। কিন্তু ভারতে যে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল তাহা বেড়ে সংখ্যালঘু তকমা থেকেও বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে কিন্তু এখানে বলে রাখি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান নিজেদেরকে ইসলামিক রাষ্ট্র বললেও ভারত কিন্তু বর্তমান একটি ধর্মনিরপেক্ষ সর্বধর্ম সমন্বয় রাষ্ট্র । তার সাথে এটাও বলে রাখি বিশ্বের যদি কোন একটি দেশ থাকে যে দেশে হিন্দুরা নিজেদের মাতৃভূমি বলুন কি জন্মভূমি বলুন কি ধর্ম ভূমি বলুন সে যাই বলুন না কেন সেটা হবে ভারত বর্ষ। তাই বিশ্বের যেখানে অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো নিজের রাষ্ট্রের ধর্মালম্বী বা নিজের রাষ্ট্রের কোন জাতি অন্য রাষ্ট্রে অত্যাচারের বা শোষণের শিকার হন তাহলে উক্ত অন্য রাষ্ট্রের নিজের ধর্মাবলম্বীর নাগরিককে নাগরিকত্ব বা কাছে টেনে নেয় কারণ তার নাড়ির টান সেই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর পাকিস্তান সংলগ্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বা পাঞ্জাবে হিন্দুদের জন্য নাগরিকত্বের ব্যপারে তৎকালীন সরকার বিশেষভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যাহা বর্তমান কার্যকর । কিন্তু বাংলাদেশ সংলগ্ন সীমান্তবর্তী রাজ্যের বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ আসাম সংলগ্ন অঞ্চলে যেসব হিন্দুরা অত্যাচারিত এবং শোষণের শিকার হয়ে ভারতে আসছে তাদের জন্য কোনো এক অজানা কারণে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কারণে আজ পর্যন্ত কোন সরকার উপযুক্ত বা পার্মানেন্ট কোন সমাধান বের করেননি। অথচ ভারতবর্ষের ইতিহাসে স্বাধীনতা সংগ্রামী বলুন বিজ্ঞানী বলুন সাহিত্যিক বলুন সকল ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলের নাগরিকরা নিজের বিশেষ ভূমিকা দেখিয়েছেন ইতিহাস তার জ্বলন্ত উদাহরণ। কিন্তু  তৎকালীন দিল্লির সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সদুত্তর সমাধানের পথ বেছে নেয় নি। তাই বাংলাদেশ আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে যে সকল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা অত্যাচারিত হয়ে চলেছে তাদের জন্য বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার বা নরেন্দ্র মোদী পরিচালিত সরকার একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কি

CAB BILL ASSAM

আমরা জানি বাংলাদেশ প্রতিদিন কোনো না কোনো সংবাদমাধ্যমে সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়ে চলেছে কারণ বাংলাদেশে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র, হিন্দুদের উপর অত্যাচার শোষণ কে নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এবং বেশ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ সমাজবিদ লেখক ব্লগার মানবাধিকার সংগঠন যথেষ্ট সবর। এসকল হিন্দুদের উপর অত্যাচার সম্পর্কে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবাংলার কোন রাজনৈতিক দল আওয়াজ তোলেনি। আমরা জানি পূর্ববর্তী সিপিআইএমের সরকার এসব উদ্বাস্তু দের সাথে কি ধরনের অমানবিক ব্যবহার করেছিল। মরিচঝাঁপি ঘটনা বাংলার ইতিহাসে কালো অধ্যায় একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। সেইসঙ্গে বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত সরকার এইসব অত্যাচারিত হিন্দুদের জন্য কোন রকম হেলদোল দেখাচ্ছেনা। কিন্তু অবাক করা কান্ড এই তৃণমূল পরিচালিত সরকার এর মধ্যেই বিভিন্ন আমলারা পরিবার ৪৭ এ ঘটনার সঙ্গে ভুক্তভোগী আছেন, একথা অস্বীকার করতে পারবে না কেউ। এখন এখন আসি বিজেপি কি করছে ? বিজেপি পরিচালিত বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এসকল হিন্দুদের জন্য একটি আইন তৈরি করেছেন যাহার নাম দেওয়া হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল । এতে বলা হয়েছে আফগানিস্তান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের যারা ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে বা তার আশঙ্কায় দেশত্যাগ করে ভারতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন তাদের জন্য এই ১৯২০ সালের সালের বিদেশি আইন এবং পাসপোর্ট আইন সংশোধন হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে চলে আসা এই দেশগুলির সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ-জৈন পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষেরা যারা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই ভারতে চলে এসেছেন তারা ভারতে আইনি বসবাসের অধিকারী হলেন। অর্থাৎ বহু বছর ধরে উদ্বাস্তুরা সবসময় যে বেআইনি বসবাসের ভয়ে শঙ্কিত ছিলেন বিভিন্ন সময়ে এই কারণে পুলিশি সমস্যা জনিত সমস্যা কারণে জেল পর্যন্ত যেতে হয়েছে এইসব আইন আইনের বেড়াজাল থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী পরিচালিত সরকার বা বিজেপি সরকার। তাই এখানে কোন মুসলিমকে তাড়িয়ে দেওয়া বা হিন্দুদের এনে বসিয়ে দেওয়া ভ্রান্ত ধারণা গুলি নিয়ে অপপ্রচারে কান দেবেন না। যেসব মুসলমান নাগরিকরা ও বছর থেকে এখানে বসবাস করছেন ভারতের নাগরিকত্বের প্রমাণ আছে তাহারা তারা এই দেশেরই নাগরিক তারা এই দেশেই থাকবেন। তাই মুসলিম মানেই বিদেশি নয়। কিন্তু যেসব ব্যক্তি এই আইনের আওতায় বাইরে আছেন যাদের উপযুক্ত প্রমাণ নেই যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছে। সোজা কথাতে যদি বলি যে সব মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে অবৈধভাবে বসবাস করছে , ভারতের মুসলমান এবং হিন্দু নাগরিকদের রুজি-রোজগার কে ছিনিয়ে নিচ্ছে; নরেন্দ্র মোদি সরকার সেইসব ব্যক্তিদেরকে শনাক্ত করে পুশব্যাক করতে চলছে !

কারা এই নাগরিকত্ব বিল পাস করতে বাধা দিচ্ছে

against cab bill
image – Google

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ যখন লোকসভায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পেশ করেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে চলে আসা এই দেশগুলির সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ-জৈন পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষেরা যারা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই ভারতে চলে এসেছেন তারা ভারতে আইনি বসবাসের অধিকারী হবে । তাছাড়া নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য ছয় বছর ভারতে থাকতে হবে যখন বলা হয়। তারপর তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক দল স্বার্থপর লাভের আশায় নিজেদের অতীত ইতিহাসকে ভুলেই বলুন বা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলুন বাঙালি হিন্দু নাগরিকের নাগরিকত্ব বাধা প্রদান করিবার জন্য সবর হয়ে উঠল। তাদের দাবি এই বিল মানবতাবিরোধী এই বিল হিন্দুত্ববাদী এই বিলকে সমর্থন করা

tmc against  nrc
image – Google

যাবেনা বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলমানদের কেউ নাগরিকত্ব দিতে হবে। পথে-ঘাটে রাস্তায় নেমে পড়ল এইসব সেকুলার নীতির নেতারা বিভিন্ন স্থানে সভা-সমিতি করে মানুষকে ভুল বুঝানো শুরু করে দিল।

বাঙালি হিন্দুর নাগরিকত্ব রক্ষার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল CAB

তাই আজ বাঙালি হিন্দুরা বিচলিত নয় আজ বাঙালি হিন্দুরা সত্য কে চিনতে চেষ্টা করছে বাঙালি হিন্দুরা জানে তাদের সাথে নাগরিকত্ব নিয়ে কারা ছেলেখেলা করেছে বাঙালি হিন্দুরা এখনো মরিচঝাঁপি ভুলে যায়নি বাঙালি হিন্দুরা এখনও মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা দেখে নিজের ইতিহাস ভুলে যায়নি। বাঙালি হিন্দুরা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পশ্চিমবঙ্গ কে রক্ষা করার ইতিহাস এখন ভুলে যায়নি। একটি বাঙালি হিন্দু কে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৯ কে সমর্থন করা উচিত এবং নিজের ইতিহাসকে মনে রেখে এগিয়ে চলা উচিত। তাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল CAB ; পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুদের রক্ষাকবচ।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্ক

BJP NRC
image- Google

প্রথমেই বলি এই বিল কোন ধর্ম বিভাজনের জন্য বিল না এই বিল নিজের অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার বিন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী  উদ্বাস্তু আইন কে রক্ষা করার জন্য বিল। সে রাজনৈতিক নেতাদের বলতে চাই এই বিলের মধ্যে এতই যদি মনে হয় তাহলে দেশ বিভাজনের সময় পাকিস্তানের হিন্দুদের ভারতে আশ্রয় প্রদানের জন্য তখন চুপচাপ ছিলেন কিন্তু আজ যখন বাংলাদেশ থেকে আসা বাঙালি হিন্দুদের রক্ষার জন্য এই বিল কে আইনে পরিণত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে তখন আপনারা কিসের আশায় ইতিহাসকে বিকৃত করে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই নাগরিকত্ব বিল সোজাসুজিভাবে উল্লেখ আছে।  এই বিল বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থরক্ষার জন্য এই বিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে চলে আসা এই দেশগুলির সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-শিখ-জৈন পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষেরা যারা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত বৈধ কাগজ-পত্র ছাড়াই ভারতে চলে এসেছেন তারা ভারতে আইনি বসবাসের অধিকারী হবেন।

Citizenship Amendment Bill 2019 CAB 2019 কি

এই নিচের অংশটি সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে নেওয়া একজন সোশ্যাল মিডিয়া লেখক লিখেছেন লেখাটি খুব তথ্যপূর্ণ হবে লিখেছেন তাই আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম
আমরা আগেই জেনেছি যে ভারতে কারা নাগরিক তা বর্ণনা করা আছে Citizenship Act, 1955 এ।
এই আইন অনুযায়ীই নাগরিকত্ব ঠিক হয়। এই আইনেরই বিশেষ কয়েকটি জায়গায় সংশোধন আনা হচ্ছে CAB এর মাধ্যমে।
Citizenship Amendment Bill 2019
 আগে Citizenship Act,1955 এর রিলিভ্যান্ট Section গুলো বর্ণনা করা হচ্ছে।তারপর বোঝার চেষ্টা করব সরকার কী পরিবর্তন আনছে।
 কী করে একজন বিদেশী এদেশের নাগরিকত্ব পেতে পারে,তার নিয়ম এটি। এজন্য ব্যক্তিটিকে একটি অ্যাপলিকেশন করতে হয়। অ্যাপলিকেশন করার আগের একবছর তাকে এদেশে একটানা থাকতে হয়। তার আগের ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছরও তাকে এদেশে কাটাতে হয়। তারপর নানা প্রশ্ন ও ভেরিফিকেশনের পর তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। সহজ কথায় দীর্ঘদিন বসবাসের সুবাদে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে এটি  দের জন্য উপলব্ধ নয়।
কারা এই illegal migrants তা বলা আছে
Section-2, 1() তে
এ অনুযায়ী-
•কোন বিদেশী পাশপোর্ট বা নেসেসারী ট্রাভেল ডকুমেন্ট ছাড়া এদেশে প্রবেশ করলে
•অথবা গ্রাহ্য সময়সীমার পরও এদেশে থেকে গেলে
সে illegal migrant বলে বিবেচিত হবে।
Citizenship Amendment Bill 2019
অর্থাৎ যারা কাগজপত্র ছাড়া চোরাপথে এদেশে এসেছে তারা illegal migrant হওয়ায় Sec-6 এর আন্ডারে নাগরিকত্বের আবেদনটি করতে পারবে না।
এখন যদি এই illegal migrants দের কোন ভাবে legal করা যায় সেক্ষেত্রে Sec-6 এর আন্ডারে দীর্ঘদিন বসবাসের সুবাদে তারাও নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারবে। সরকার এটিই করার চেষ্টা করছে CAB এনে।
CAB তে তাই উপরের দুটি অংশে সংশোধন আনা হচ্ছে।
•Sec-2,1(b) তে এখন উল্লেখ করা হচ্ছে যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ঐসব দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান, পারসি, শিখ সম্প্রদায়ের কেও এদেশে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট ছাড়া প্রবেশ করলেও তাকে আর illegal migrant বলে ধরা হবে না। এমনকি তাদের নামে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থেকে থাকলে তাও তুলে নেওয়া হবে।
ফলে এইসব মানুষও এখন Sec-6 এর আন্ডারে নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারবে।
Citizenship Amendment Bill 2019
•Sec-6 তে তারা যাতে আরও সহজে নাগরিকত্ব পেতে পারে তারজন্য এতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগের মত এখন আর শেষ ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর এদেশে থাকার পর আবেদন জানানো লাগবে না, এখন নিয়মটি শিথিল করে ৬বছর ( +বিগত ১বছর একটানা ) করা হয়েছে। মানে বিগত মোট ৭ বছর আপনি এদেশে বাস করলে আপনাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
সহজ কথাই যেসব বিদেশী কাগজপত্র ছাড়া এদেশে অনুপ্রবেশ করেছে এবং এখনও নাগরিকত্ব পায়নি তারা আগে নাগরিকত্ব পেত না, এখন তাদের একটা অংশকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
সুতরাং, এই বিলের মাধ্যমে Citizenship Act এর যে অংশগুলি বিদেশী সংক্রান্ত শুধুমাত্র সেই অংশগুলির কয়েকটি জায়গায় সংশোধন আনা হচ্ছে যাতে তাদেরকেও নাগরিকত্ব দেওয়া যায়। যারা অলরেডি নাগরিক তাদের জন্য যে ধারাগুলি আছে তাতে কোন পরিবর্তন আনা হয়নি।
অর্থাৎ, CAB তে সরকারের উদ্দেশ্য যারা অলরেডি নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব কাঁড়া নয়। যারা নাগরিক নয়, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে তাদেরকেও নাগরিকত্ব দেওয়া। আমরা বেশিরভাগই এ জায়গাটা বুঝতে ভুল করেছি।
যারা নাগরিক তাদের জন্য আলাদা section আছে, Sec-3 এবং Sec-4. সরকার এগুলিতে কোন পরিবর্তন আনছে না।এটি সেই নিয়মটি যেটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের কথা বলে। মানে সেই ১/৭/১৯৮৭ এর নিয়মটি। যারা পর্ব-১ পড়েননি তাদেরকে বলি এই Sec-3 অনুযায়ী
১লা জুলাই ১৯৮৭ এর আগে এদেশে কারো জন্ম হয়ে থাকলে সে জন্মসূত্রেই নাগরিক। এক্ষেত্রে তার মা বাবা কারোর নাগরিকত্ব দেখা হয় না। অর্থাৎ আপনি এদেশে জন্মেছেন, আপনি এদেশের নাগরিক।
Citizenship Amendment Bill 2019
১ জুলাই ১৯৮৭ এর পর থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর মধ্যে আপনার জন্ম হয়ে থাকলে জন্মের সময় আপনার মা বাবার একজনকেও ভারতীয় নাগরিক হতে হয়। অর্থাৎ আগের মত শুধু এদেশে জন্মেছেন বলেই নাগরিক নন, আপনার জন্মের সময় মা বাবা একজনকে এদেশের নাগরিক হতেই হবে।
৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর পর জন্ম হলে আপনার মা বাবা দুজনেই এদেশের নাগরিক হলে তবেই আপনি নাগরিক। (মা বাবার একজন হলেও হবে তবে অপরজন যেন অনধিকার অনুপ্রবেশকারী না হন।)
এটি থাকছেই। সরকার এই নিয়মে কোন পরিবর্তন আনেনি। আগের পর্বেই আলোচনা করেছি এই আইনে পরিবর্তন সম্ভবও না।
 অর্থাৎ যারা অলরেডি নাগরিক তাদের জন্য নয় এই বিলটি। নাগরিকদের জন্য যে আইন আছে তাতে কোন পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। সহজ বাংলায় কারও নাগরিকত্ব কাঁড়া হচ্ছে না।
যেসব বিদেশী কোন ডকুমেন্ট ছাড়া এদেশে পালিয়ে এসেছে এবং এখনও যাদের নাগরিকত্ব নেই তাদেরকেও নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যে এই বিল

পাঠক কে অনুরোধ কপি করে পেস্ট করতে যাবেন না ভালো লাগলে লিংকটিকে শেয়ার করুন । আমার ইমেইল আইডি – abdutta21@gmail.com

ইন্ডিয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায়, ভারতের নাগরিক হওয়ার উপায়, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৬, নাগরিকত্ব বিল কি, ভারতে বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব, কিভাবে ভারতের নাগরিক হওয়া যায়, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম, ভারতের নাগরিক হতে কি লাগে, citizenship amendment bill, citizenship amendment bill 2019 pdf, citizenship amendment bill 2019 essay, citizenship amendment bill 2019 passed , নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ , রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)