১২৮ ফিট উঁচু অযোধ্যাতে রাম মন্দির বানানোর পরিকল্পনা। কেমন দেখতে হবে পড়ুন Ayodhya Ram Mandir

ayodhya-ram-mandir-verdict-2019-five-century-later-128-feet-high-ramlala-temple-will-be-built-on-the-birthplace

প্রায় 400 বছর পুরনো অযোধ্যা ( Ayodhya) মামলা উচ্চতম ন্যায়ালয় ( Supreme court) বিচারের ফলে অন্ত পেল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অতি শীঘ্রই রাম মন্দিরের ( Ram Mandir) ট্রাস্ট গঠন করা হোক। এত বছর পর পুনর্বার রাম মন্দির নির্মাণ হতে চলছে রাম জন্মভূমিতে ( Ram Janmabhumi)। কেমন হবে মন্দিরে পরিকল্পনা ? কিভাবে হবে কতটুকু কাজ হয়েছে তা একবার দেখে নেওয়া যাক।
এখানে উল্লেখযোগ্য ইতিহাসবিদ থেকে শুরু করে পুরাতত্ত্ববিদ সকলেই উক্ত স্থানে রাম মন্দির বা পুরাতন কোন মন্দির ছিল বলে তার ধ্বংসাবশেষ পেয়েছেন যাহা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

ram mandir ayodha

যেই রাম মন্দিরের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে তাহা দুতলা হবে। প্রথম চল ১৮ ফিট উঁচু এবং দ্বিতীয় তলা ১৫ ফিট ৯ ইঞ্চি উঁচু হবে। এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে করার জন্য প্রায় ২৮ বছর ধরে রাজস্থান গুজরাট মির্জাপুর এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আসা কলাকুশলী কারিগর প্রায় এক লাখ ঘনফুট পাথরে খোদাই করে কার্য পূরণ করে নিয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রস্তাবিত রাম মন্দিরের পাথর খোদায়ের কাজ প্রায় সমাপ্ত হয়ে গেছে। এখন কাজ শুরু করাই বাকি। রাম জন্মভূমির পাশে প্রবাহিত সরযূ নদী, অগ্নিকোণে বিরাজমান হনুমান, এবং অযোধ্যার বাসিন্দারা এবং বিভিন্ন রাম সাধক আজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে কখন এই সুন্দর রাম মন্দির নির্মাণ হবে ? যাহার অপেক্ষা শত শত বছর ধরে তাহারা করে আসছেন।

ram janamabhu

১৯৮৯ সনে প্রস্তাবিত রাম মন্দিরের মডেল ( Ram Mandir Model) বানানো হয়েছিল.
রাম জন্মভূমি পরিসরে মাপ ইত্যাদি নেওয়ার পর প্রস্তাবিত নকশা তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। সম্ভবত নকশা তৈরি করেছিলেন চন্দ্রকান্ত সমপুরা নামে এক ব্যক্তি।  তারপর সেই নকশা অনুসারে একটি মডেল তৈরি করা হয় এবং সেই মডেলটি সবার প্রথম ১৯৮৯ সনে প্রয়াগরাজ কুম্ভ মেলাতে দেখানো হয়। তারপর কিছুদিন মডেলটি শিলান্যাস এর স্থানে রাখা হয়। এরপর যখন ১৯৯০ সালে রাম জন্মভূমি ন্যাসের কার্যশালা গঠন করা হয় তখন থেকে মডেলটি ওখানেই রাখা হয়।

কেমন হবে দেখতে রাম জন্মভূমি রাম মন্দির

ram janamabhumi karyashala
  • রাম জন্মভূমিতে স্থিত রাম মন্দির বানানোর জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ( Vishwa Hindu Parishad) নকশা বানিয়েছেন তাহা অনুসারে প্রস্তাবিত মন্দির ২৬৮ ফিট লম্বা হবে।
  • রাম জন্মভূমিতে স্থিত রাম মন্দির বানানোর জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নকশা বানিয়েছেন তাহা অনুসারে প্রস্তাবিত মন্দির ১৪০ ফিট চওড়া হবে
  • রাম জন্মভূমিতে স্থিত রাম মন্দির বানানোর জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নকশা বানিয়েছেন তাহা অনুসারে প্রস্তাবিত মন্দির ১২৮ ফিট উঁচু হবে।
  • বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম প্রস্তাবিত নকশা হিসাবে প্রথম তলার ছাদ ৮ ফিট উঁচু হবে যেখানে প্রশস্ত সিড়ি বেয়ে উপরে উঠা যাবে। ইহার উপরে ১০ ফিট চওড়া রাস্তা হবে।
  • বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম প্রস্তাবিত নকশা হিসাবে অগ্রভাগ, সিংহভাগ বা সিংহদ্বার, নৃত্য মন্ডপ এবং গর্ভগৃহ রূপে মন্দিরের পাঁচটি প্রক্ষণ্ড হবে।
  • বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম প্রস্তাবিত নকশা হিসাবে মন্দিরে প্রায় ২১২ টি স্তম্ভ লাগানো হবে। প্রথম তলে ১০৬ দ্বিতীয় তলা ১০৬ টি। তাছাড়া প্রথম তলের স্তম্বের উঁচু হবে ১৬ ফুট এবং দ্বিতীয় দলের লাগানো স্তম্ভের উঁচু হবে ১৪ ফুট ৬ ইঞ্চি
  • বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম প্রস্তাবিত নকশা হিসাবে প্রতিটি স্তম্ভে যক্ষ যক্ষিণী এর ১৬ টি মূর্তি এবং অন্য কলাকৃতি থাকবে।
  • মন্দিরের যে কক্ষে রামলালা ( Ram lala) বিরাজমান হবেন সেটি হবে গর্ভগৃহে।
  • প্রস্তাবিত মন্দির নির্মাণে প্রায় ৭৫ হাজার ঘনফুট লাল পাথর দরকার পরবে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রথম প্রস্তাবিত নকশা হিসাবে রাম মন্দির বানাতে বলা হচ্ছে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর এর মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। কারণ বেশিরভাগ পাথর খোদাইয়ের কাজ শেষ হয়ে গেছে ইহাকে এখন স্থান পরিবর্তন করে মন্দির বানানো স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পাথরের স্তম্ভ গুলিকে কপার এবং সাদা সিমেন্ট দ্বারা জোড়া লাগানো হবে।
এখানে উল্লেখনীয় রাম মন্দির বানানোর রায় ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে গোটা দেশজুড়ে হিন্দু মুসলমান সবাই এক সম্প্রিতির বার্তা দিচ্ছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এবং মুসলমান ব্যক্তিবর্গ রাম মন্দির বানানোর জন্য অর্থ সহযোগিতা এবং নিজে এসে কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন।
পাঠক কে অনুরোধ কপি করে পেস্ট করতে যাবেন না ভালো লাগলে লিংকটিকে শেয়ার করুন প্রস্তাবিত রাম মন্দির দর্শন করতে আসুন। আমার ইমেইল আইডি – abdutta21@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)