ছাত্র যুব শক্তির বিকাশের দ্বারাই নতুন ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে- অরবিন্দ দত্ত

ভারতের ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করে আমরা দেখতে পাই, যে অনাদি কাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মহারানা প্রতাপএ বলুন কিংবা বিবেকানন্দ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস কিংবা আশরাফুলা খানের মতন মহান বীর বীরাঙ্গনার বীরত্বের কথা। যাদের রক্তে বীর্যে ছিল ভারতীয় বিচারধারা। তাই বরাবর বিদেশি আক্রমণের পরেও ভারত আজও নিজের পরিচয় বিদ্যমান। এই সকল মহাপুরুষগণ নিজেদের আত্ম যুব প্রেরণা বসত ভারতভূমিকে বিদেশি আক্রমণের প্রতুত্তর এবং ভারত মাতা কে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সুতরাং একটা কথা নিঃসন্দেহে আমি বলতে পারি যে যুগে যুগে ভারতের যুবশক্তি সমাজকে পরিবর্তন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে এসেছে।
বর্তমান ভারতের স্বাধীনতার এতগুলি বছর পার করে আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতের যুবকদের মধ্যে ভারতের সমৃদ্ধির পথে উৎসাহ উদ্দীপনা জাগরিত হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে ভারতের প্রতি একটি কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের প্রতি চেয়ে আছে।  ভারতের জনগণ আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পৃথিবীর মধ্যে ভারতের আধ্যাত্মিকতাবাদ, পর্যটন, শিল্প, বিজ্ঞান, যোগ, চিকিৎসা এক বিশেষ বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে। শুনতে অবাক এবং বলতে গর্ব হচ্ছে যে বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গুলি নিজের শক্তিতে বিশ্ব নাচছিল আজ সেই দেশগুলি ভারতের কাছে নত এবং ভারতের সুনাম করছে। একটি তথ্য অনুসারে বিশ্বের

বিভিন্ন দেশে 38% বিজ্ঞানী 35% বিভিন্ন নাসার বিজ্ঞানী ভারতীয় তাছাড়া microsoft-এর 34% কর্মচারী ও ভারতীয়। আজ ভারত বিশ্বের 50 টিরও অধিক দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে। পৃথিবীর সব থেকে মিষ্টি তৃপ্ত ভাষা সংস্কৃতি কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং নাসা এবং কম্পিউটারের সবথেকে সঠিক এবং সহজ ভাষা হিসেবে প্রমাণ করা হয়েছে। এইসব এর চেয়েও গর্ব করা কথা যে ভারত পৃথিবীর জনসংখ্যার নিরিখে যুবসম্পদ এর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। সেই নিরিখে আমার মনে হয় নতুন ভারত গড়তে হলে যুব পরিবর্তনশীল মানব সম্পদ বিকাশ নীতির প্রতি জোর দেওয়া হোক। তাই ভারতবর্ষে আর্থিক রাজনৈতিক সামাজিক এবং শিক্ষার দিক দিয়ে এক ব্যাপক যুব পরিবর্তনশীল নীতির প্রয়োজন আছে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই বর্তমান বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের সদস্যরা রাষ্ট্রের কল্যাণ এর প্রতি নিজের দায়িত্ব ভুলে নিজ কল্যাণের প্রতি বেশি চিন্তিত। এই মনোভাবের ফলে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব এবং দেশের সুরক্ষা সেনাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিশেষ কিছু কিছু রাজ্যে জনসাধারণের এর ভূক্তভোগী হতে হচ্ছে। তাহারা নিজেদের ধর্মীয় আচরণ এবং নিজেদেরকে সুরক্ষার অভাব অনুভব করছে। রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থসিদ্ধির লোভে বসত আজ ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে কি সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই স্থানে স্থানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরেই ভরসা রাখছে। রাজনৈতিক নেতারা যুবসম্পদ কি অর্থ লোভ দেখিয়ে  ক্লাব সংস্কৃতিতে জড়িয়ে নিজের দলের ঝান্ডা ধরিয়ে নিজের দলের সম্পদ হিসেবে মনে করে যুব সম্পদের উন্নয়নে কথা ভুলে যুব সমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে এবং অসামাজিক কাজে লিপ্ত করাচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভারত আজ আই আই টি, আই আই এম এর মত বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি মান বৃদ্ধি হচ্ছে। বর্তমান বিগত 3-4 বছরে সাক্ষরতার হার পরিবর্তন এসেছে সর্ব শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তব হতে চলেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কে সহজলভ্য করার জন্য ডিজিটাইজেশন এবং পড়াশোনার বই পত্র বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের কাছে যাতে পৌঁছে যায় তার জন্য ই বুক লাইব্রেরী খোলা হয়েছে। ভারত বিকাশের ক্ষেত্রে দ্রুত সাথে এগিয়ে চলেছে। জনধন যোজনা, মুদ্রা যোজনা, সৌভাগ্য যোজনা, উজালা, চাষী মাটির পরীক্ষা যোজনা ইত্যাদি সমস্ত ধরনের যোজনার জন্য আজ ভারতের জনসাধারণ খুবই উপকৃত হয়েছে। যুব সমাজের শিক্ষার জন্য করা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা অনেকটা বাস্তব হয়েছে। সেই সঙ্গে আমার মনে হয় শিক্ষাকে আরো সহজলভ্য করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষা গ্রহণের মূল্য কমাতে হবে যাতে দরিদ্র যুব সমাজ গ্রহণ করতে পারে সেই সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে দেশীয় ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ যাতে হয়।
বর্তমান বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে প্রায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে শিক্ষা গ্রহণের জন্য তোলাবাজদের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী যুব সমাজকে। এবং সেইসঙ্গে শিক্ষাঙ্গন এর আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীরা নিজের ভালো লাগা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে না। তার জন্য বিশেষ করে মেধাবী এবং দরিদ্র ছাত্র ছাত্রীরা মাঝখান থেকে নিজের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও যোগ্যতা না পাওযায় কেউ হয়তো আত্মহত্যা করছে কেউ বা বিভিন্ন নিম্নমানের কাজে নিজেকে যুক্ত করছে কেউ বা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরছে। তাই আগামী সরকারের কাছ থেকে এমন এক যুবনীতি দরকার যে যুবনীতি ছাত্র-ছাত্রীদের যোগ্যতা মেধার ভিত্তিতে পড়াশোনা করানোর সুযোগ দিতে পারে, তোলাবাজদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারে, যোগ্যতা অনুসারে কাজ দিতে পারে বিপথগামী যুবকদের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
নতুন ভারত গড়তে হলে আমাদের অতীত গৌরব সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে তারপর শিক্ষাকে বিকাশের প্রধান শর্ত হিসেবে নিয়ে শিক্ষার যদি কে ভারতের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষা সুলভ করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার বৃদ্ধি করতে হবে। আমি ভাবি এই শিক্ষার বিকাশ এর সাথে সাথে এই যুবশক্তি রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণ করার ফলস্বরূপ তাহাদের সুস্থ সমৃদ্ধ শাসন প্রণালী এবং নীতির দ্বারা পরিবর্তন হবে ভারতের অর্থনীতি রাজনীতি সামাজিক ব্যবস্থা। ভারতে বিগত কয়েক বছরে যেভাবে বিকাশের অগ্রগতি হয়েছে তাই সে বিকাশের ধারাকে অব্যাহত রেখে ভারত এমন এক যুবনীতি চায় যাহা সঠিক এবং সমৃদ্ধ যুবনীতি গঠন করবেন। বর্তমান বিশ্ব দরবারে ভারতের যুবকদের উদ্যমী হতে হবে, ভারতের বিকাশ কে নিজের বিকাশ হিসাবে ধরতে হবে,বিশ্ববাজারে ভারতের প্রতি যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছে তা বাড়াতে হবে, নিজ কৌশলগত স্থাপত্য প্রতি গর্ব বোধ করতে হবে, সব পরিশ্রম দ্বারা অর্জন করতে হবে, ভারতের যুবক সব সময় বিপ্লবী মনোভাব অন্য হয় আর এই বিপ্লবী মনোভাব সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে যুগে যুগে। শুধু গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলন এর দ্বারা ভারত স্বাধীন হয়নি উল্টে বিভাজন হয়েছিল কিন্তু নেতাজির যুব শক্তি দ্বারাই ভারতের স্বাধীনতার এক আগুন জেগেছিল। সুতরাং নতুন ভারত গড়ার জন্য আগন্তুক লোকসভা নির্বাচন ভারতের যুব শক্তির কাছে অনেক বড় দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। যেই নির্বাচন সঠিক নেতৃত্বের দ্বারা মার্গদর্শন করে ভারতের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুবসমাজের একটি ভোটের দ্বারা নির্ণয় করবে যে ভারত-  বর্তমানের মতন গতিতে এগিয়ে নিয়ে মহাশক্তি করবে না 60 বছরের দুঃখ বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকবে।  নির্নয় আপনাকেই নিতে হবে। সুরক্ষিত দেশ – সুরক্ষিত শিক্ষা – সুরক্ষিত নারী – বিকশিত যুবসমাজ – নতুন ভারত।

Leave a Comment